Sign Up

Sign Up to our social questions and Answers Engine to ask questions, answer people’s questions, and connect with other people.

Sign In

Login to our social questions & Answers Engine to ask questions answer people’s questions & connect with other people.

Forgot Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.

Please type your username.

Please type your E-Mail.

Please choose an appropriate title for the question so it can be answered easily.

Please choose the appropriate section so the question can be searched easily.

Please choose suitable Keywords Ex: question, poll.

Type the description thoroughly and in details.

Choose from here the video type.

Put Video ID here: https://www.youtube.com/watch?v=sdUUx5FdySs Ex: "sdUUx5FdySs".

Please briefly explain why you feel this answer should be reported.

শিশু শিহাব, একজন ইউএনও ও কয়েকটি প্রশ্ন

শিশু শিহাব, একজন ইউএনও ও কয়েকটি প্রশ্ন

শিশু শিহাব, একজন ইউএনও ও কয়েকটি প্রশ্ন

শিশু শিহাব, একজন ইউএনও ও কয়েকটি প্রশ্ন

সারাদেশ

তাবারক হোসেন আজাদ,  রায়পুর (লক্ষ্মীপুর)

2021-05-06
2021-05-06

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরীন চৌধুরী নিজের কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত। মঙ্গলবার বিকালে হঠাৎ নিষ্পাপ চেহারা আর আদুরে একটি শিশু খালি পায়ে ইউএনওর কক্ষে প্রবেশ করে।

শিশুটির নাম শিহাব। তার হাতে ছিল একটি ময়লা থলে। কক্ষে ঢুকেই সে ইউএনওর কাছ থেকে সাহায্য চেয়ে হাত বাড়িয়ে দেয়। এতে অবাক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে ছিলেন ইউএনও সাবরীন চৌধুরী।

জানতে পেরে সারাদিন অভুক্ত শিহাবকে খাবারের ব্যবস্থা করে দেন। দাপ্তরিক কাজ শেষে শিহাবকে নিয়ে ইউএনও বেরিয়ে পড়েন দক্ষিণ চরমোহনা ইউসুফ মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায়। শিহাব বলেছিল সে স্কুলটির দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র।

ঈদের নতুন জামার লোভে শিহাব সবার কাছে টাকা চেয়েছে শুনে পথে গাড়ি থামিয়ে তার পছন্দমতো শার্ট-প্যান্ট ও এক জোড়া জুতা কিনে দিয়েছেন ইউএনও। অবশেষে শিহাবের মুখে শোনা স্কুলের সামনে পৌঁছল ইউএনওর গাড়ি। কিন্তু সেখানে কেউই শিহাবকে চেনেন না।

অনেক বুঝানোর পর শিহাব বলে ওঠে তার বাড়ির নাম ‘বকুল হুজুরের বাড়ি/জিনাত আলী হুজুরের বাড়ি।’ সেখানকার লোকজন তখন ঠিকানাটি নিশ্চিত করে। সন্ধ্যার আগেই শিহাবের বাড়ি সদর উপজেলার দালালবাজার ইউনিয়নে উপস্থিত হন ইউএনও। মূলত শিহাবের বাড়ি রায়পুর নয়।

সেখানে গিয়ে ইউএনও জানতে পারেন, শিহাবের বাবা ৬-৭টি বিয়ে করেছেন। অনেক আগেই তাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তার মা কোনোমতে মানুষের বাড়িতে কাজ করে শিহাবকে নিয়ে বেঁচে আছেন। কিন্তু ছেলে ভিক্ষা করুক এটি তার মা কখনো চাননি। এর মধ্যেই তার মা ছেলেকে পাওয়া গেছে শুনে দৌড়ে বাড়ি আসেন। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ছেলের কর্মকাণ্ডে তিনি কাঁদতে থাকেন। এতে কেঁদে ওঠে ইউএনওর মনও।

শিশুটির পুরো ঘটনায় ইউএনওর মনে প্রশ্ন জাগে- এইটুকু শিশুর কাছে মাতৃমমতা প্রবঞ্চিত হলো? এত ছোট বয়সে এতটা মিথ্যা সে কীভাবে রপ্ত করল? এত ছোট বয়সেই এতটা সাহসি সে কীভাবে হলো?

এমন সব আবেগ আর প্রশ্নজড়িত শব্দ দিয়ে তৈরি বাক্যগুলো দিয়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ইউএনও তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পোস্ট করেন।

ইউএনও সাবরীন চৌধুরীর পোস্টের আংশিক লেখা ছিল এরকমই- ‘অবাক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, কার সাথে এসেছ, এতো ছোট বয়সে তুমি ভিক্ষাবৃত্তিতে কেন নেমেছ, কে শিখিয়ে দিয়েছে, বাবা-মা কোথায়, বাড়ি কোথায় ইত্যাদি।

উত্তরে শিহাব জানালো, সে একাই এসেছে, বাড়ি রাখালিয়া, বাবা নেই, মার নাম জানে না। খুব সকালে খেয়েছে, ক্ষুধা লেগেছে। শুনেই তাৎক্ষণিক তার খাবারের ব্যবস্থা করলাম।

শিশুটিকে সামনে বসিয়ে হাতের কাজগুলো গুছানোর ফাঁকে মনে মনে চিন্তা করেছিলাম, কেমন মা? কোলের শিশুটিকে এই পেশায় নামিয়েছে, কী এমন অবস্থা যে তাকে একলা ছেড়ে দিতে হলো। শিশুটির কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। খারাপ লোকের খপ্পরে পড়তে পারত। মা তো নিজেও আসতে পারত। এই শিশুটি বাড়ির ঠিকানা চেনে না, সে বাড়ি ফিরবে কীভাবে। আরও কত কী!

সন্ধ্যায় শিহাব নিজ আঙিনায় পা রাখতেই আশপাশে তার সমবয়সী সব শিশু দৌড়ে এলো। সেও মহাখুশি। কিন্তু তার ছোট ঘরটিতে তালা ঝুলছিল। তাতে তার ভ্রূক্ষেপ নেই। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে আশপাশের বাড়ির লোকজনকে ডাকা হলে মোটামুটি সবাই সাড়া দিল।

এতক্ষণ পর্যন্ত শিশুটির জন্য একটা শঙ্কা, একটা কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু যখন জানতে পারলাম, শিশুটি আরও ছোট বয়স থেকেই এভাবে একা একা ভিক্ষা করতে বেরিয়ে যায়। বানিয়ে বানিয়ে কথা বলে, কখনো চাঁদপুর, কখনো রামগতি চলে যায়।

এর জন্য অনেক মারধর খেয়েছে তবুও সংশোধন হয়নি। বাবা ৬-৭টা বিয়ে করে এদের ফেলে রেখে চলে গিয়েছে। তার মা এদিক-সেদিক টুকটাক কাজ করে বেড়ায় কিন্তু ছেলে ভিক্ষা করুক তা চায় না। বুঝলাম, পরিবার এবং পরিবেশ সত্যিকার অর্থেই একটি শিশুর বেড়ে ওঠার পেছনে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তবে আল্লাহ যেন শিশুটিকে হেদায়েত করে মায়ের কষ্ট ও মমতাকে বোঝার বোধটুকু দান করেন।’

ইউএনও সাবরীন চৌধুরী জানান, শিশুটিকে ভালো করে বুঝিয়েছি। তার মাকেও একটু সতর্কতা বাড়ানোর জন্য বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপহার খাদ্যসামগ্রী তার মায়ের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। ভালো কোনো কিছুর ব্যবস্থা করে দিতে পারার আশায় তাদের ঠিকানা নিয়ে আসা হয়েছে।

© JUGANTOR.COM

‘.”

“.’

Related Posts

Leave a comment