Sign Up

Sign Up to our social questions and Answers Engine to ask questions, answer people’s questions, and connect with other people.

Sign In

Login to our social questions & Answers Engine to ask questions answer people’s questions & connect with other people.

Forgot Password

Lost your password? Please enter your email address. You will receive a link and will create a new password via email.

Please type your username.

Please type your E-Mail.

Please choose an appropriate title for the question so it can be answered easily.

Please choose the appropriate section so the question can be searched easily.

Please choose suitable Keywords Ex: question, poll.

Type the description thoroughly and in details.

Choose from here the video type.

Put Video ID here: https://www.youtube.com/watch?v=sdUUx5FdySs Ex: "sdUUx5FdySs".

Please briefly explain why you feel this answer should be reported.

মা আমাকে বেহেশতের দিকে টানেন

মা আমাকে বেহেশতের দিকে টানেন

মা আমাকে বেহেশতের দিকে টানেন

মা আমাকে বেহেশতের দিকে টানেন

দৃষ্টিপাত

মুজাহিদ শুভ

2021-05-09
2021-05-09

পৃথিবীতে মায়ের কোনো তুলনা হয়? হয় না। আবার হয়ও। তুলনাটা যখন এক মায়ের সঙ্গে অন্য মায়ের। তখন পার্থক্য কিছুটা থাকেই। যদিও একেকটি অন্যটির চেয়ে ব্যতিক্রম এবং সুন্দর।

আমার মা, পড়েছেন পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। ঘর করেছেন প্রাইমারি স্কুলের প্রয়াত প্রধান শিক্ষক আমার বাবার সঙ্গে। দীর্ঘ সংসার জীবনে আব্বাকে ঠেলেছেন নামাজ, দান এবং সুন্দরের পথে। সুন্দরের দিকে অনেকেই অনেকভাবে ঠেলতে থাকেন। কিন্তু আমার মাতো নাছোড়বান্দা।

কাঙ্ক্ষিত মঞ্জিলে পৌঁছে না দেয়া পর্যন্ত তিনি মাথা নষ্ট করে ফেলবেন। এই যেমন মসজিদে নামাজ পড়তে পাঠানো। আযানের ৩০ মিনিট আগে থেকেই গোসলের জন্য মাথা খারাপ করবেন ৫ বার, আযান হয়ে গেছে বলে ভুল করে ছুটে আসবেন ৩ বার। আর আযান যদি সত্যিই শোনা যায়। তখনতো আর রক্ষা নাই। সোজা বাংলায় তিনি পাগল হয়ে যান। ১০ বার পর্যন্ত আমাদের কাছে ছুটে আসেন।
গেলি?

যাসনি?

এখনও ওজু ই করিসনি।নামাজ বোধয় দাড়িয়ে গেছে। দৌড়ে গেলে এখনও পাবি কিন্তু। এমন হাজার হাজার দিন মা ঠেলেছেন বিরতিহীনভাবে। গিয়েছি মসজিদে, কখনো আগে কখনো পরে। অনেক দিন দেখেছি, একই কাতারে আমরা ৬ ভাই দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ছি। সেই দৃশ্য আজও হৃদয়কে প্রশান্ত করে।

বড় ভাই মারা যাবার পর মসজিদের কাতারে ভাইদের সঙ্গে এখন ভাতিজা ভাগিনাদের ভিড়। আমাদের পেছনে ফেলে সামনের কাতারে অবলীলায় দাঁড়িয়ে যাচ্ছে আমাদের সন্তানরা। কেউ ঠ্যালেনি এদের। তাদের কারো দাদী, কারো নানী, যিনি আমার বেহেশত, আমার জননী, তিনিই তাদের ঠেলে মসজিদে পৌঁছে দিয়েছেন।

বাড়ির বউরা অনেক সময় বিরক্ত হয়ে যায়। বলেন। মা থামেন, যাবেতো মসজিদে, আযান হোক। কে শুনে কার কথা। সমানে তর্ক করবে বউ ছেলে নাতিদের সঙ্গে। লক্ষ্য একটায় নামাজ পড়তে হবে সামনের কাতারে। হাদীস শোনাবেন, যদি মানুষ জানতো সামনের কাতারের মর্যাদা তাহলে প্রতিযোগীতায় নাম লেখাতো। মাঝে মাঝে মনে হয়েছে, তার চোখের সামনে দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুনের শিখা। তিনি চাননা পা পিছলে কেউ পড়ে যাক সেই ভয়ঙ্কর অগ্নিকুন্ডে।

মা আজ বয়সের ভারে ন্যুজ্ব, পেরিয়েছে ৬৫টি বছর। সেই পেরেশানি একটুও নিস্তেজ হয়নি। একটি মোবাইল দিয়ে এসেছিলাম যেন মন চাইলে কথা বলতে পারেন। ফোন তিনিই দেন প্রায়ই। কখনও আমাকে পান কখনও ব্যস্ততায় পাননা। যখন পেয়ে যান, ওপারের কণ্ঠে প্রথম বাক্যটিই শুনি, বাবা নামাজ পড়েছিস? কোরআন পড়েছিস? দোয়া কুনুত মুখস্থ হয়েছেতো? ঘুমানোর দোয়া পড়িস তো প্রতিদিন?

আর আয়াতুল কুরসি? প্রতি ফরজ নামাজের পরেই পড়তে হবে। তাহলে মৃত্যু সহজ হবে। বাঁচা যাবে কবরের কঠিন আযাব থেকে। ইথারে ভেসে আসা মায়ের কণ্ঠের প্রথম বাক্যে কোনদিন শুনিনি, বাবা কেমন আছিস? কী দিয়ে ভাত খেলি? বউমা কেমন আছে?

তিনি বোধয় সম্ভাষণের প্রথম বাক্যগুলো শেখেননি বা সচেতনভাবে শিখতে চাননি কোনদিন।

তার কাছে স্নেহ ভালোবাসা আদরের অন্য নাম সন্তানদের জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির জন্য আমৃত্যু পেরেশান থাকা। পরিবারে কত মেহমান এসে মায়ের কাছে শুনেছেন মসজিদে নামাজ পড়তে যাবার অনুরোধ। মায়ের চেষ্টায়, আমার মেঝ ভাবির বাব ধূমপান ছেড়ে পুরো দস্তুর নামাজি হয়েছেন সেই কবে। আমাদের অফিসের সহকর্মী ধর্মান্তরিত হয়েছেন সেও মায়ের পরোক্ষ চেষ্টায়। সুন্দর এমন অসংখ্য উদাহরণ ভুলেও গেছি কতটা।

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি ভিডিও কলে কথা বলেন। কথা বলার মাধ্যম বদলেছে কতবার, শুধু মায়ের সেই পেরেশানি কমেনি এতটুকুনও যা দেখে আসছি আমার জন্মের ৫ বছর বয়স থেকেই। নামাজ না পড়ার কারনে আমার পরিবারের সদস্যদের খাবার বন্ধ হবার রেকর্ড শত শত। এত বছর পরেও নামাজটা ঠিক মতোই আছে পরিবারে। ঘরে আসা নতুন সন্তানদের সবচেয়ে কম বয়সে বাবা চাচার সঙ্গে মসজিদে যাওয়া পরিবারের অন্যতম সৌন্দর্যের একটি। এখন মা মাতাল বেজোড় রাত্রি অনুসন্ধানের তাগাদা দিতে। কোনভাবেই যেন মিস না হয় মহিমান্বিত রাত।

এসব করতে যেয়ে আমার মা হয়েছেন কম সামাজিক, কম আন্তরিক, কম বুঝের। আমরা বিরক্ত হয়েছি, বিরক্ত হয়েছে ঘরের বউরা, পরিবারে আসা অনেক মেহমানরাও।

তারপরও বলছি আমার এই কম সামাজিক মায়ের সঙ্গে অন্য মায়ের তুলনা স্পষ্ট। অন্য মায়েরা সন্তানকে পৃথিবীতে সুখী দেখতে চেয়েছেন। কেউ কেউ দু’পারেই শান্তি কামনা করেছেন। তবে আমার মা, শুধুই পরকালীন মুক্তির কথা ভেবেছেন। আমাকে ক্রমাগত টেনেই চলেছেন প্রভুর প্রতিশ্রুত বেহেশতের দিকে।

লেখক: মুজাহিদ শুভ

সাংবাদিক

 

© JUGANTOR.COM

‘.”

“.’

Related Posts

Leave a comment